২০০৯-২০১৯ঃ দশ বছরে যাদবপুরের পরিবর্তন ও রাজ্যের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ

প্রশাসক
(ভাষাঃ বাংলা)
১৮ জানুয়ারি ২০১৯


ঠিক দশটা বছর আগে (২০০৯) ভর্তি হয়েছিলাম যাদবপুরে, হোস্টেলে থাকতাম। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রতিটা বিভাগই জেলার ছেলেমেয়েতে ভর্তি ছিল। এমনিই ইঞ্জিনিয়ারিং এ মেয়ের সংখ্যা খুব কম। জেলার বিখ্যাত কিছু স্কুল ছিল যেমন বাঁকুড়া জেলা স্কুল, জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল, কয়েকটা রামকৃষ্ণ মিশন, আরামবাগ হাইস্কুল, কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল, বর্ধমান সিএমএস স্কুল ইত্যাদি- এই সব স্কুল থেকে অনেক ছেলে চান্স পেত যাদবপুরে। তারা তো সিবিএসই র ছেলেমেয়েদের সাথে প্রতিযোগিতা করেই চান্স পেতো মেধার জোরেই।

যাদবপুরে ভর্তিতে ডোমিসাইল নীতি ছিল। সেটা উঠে গেল। গ্রাম-বাংলার মানে জেলার ছেলেমেয়েদের, গরীব ছেলেমেয়েদের পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা ভাবে। ডোমিসাইল একটা গুরুত্বপূর্ণ ট্যুল। যাদবপুরে ডোমিসাইল নীতি উঠে যাওয়ায়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইরের রাজ্যের ছেলেমেয়ে হু হু করে ঢুকছে। মানে রাজ্য সরকারি কলেজে ভর্তি হতে আসলে উত্তর ভারতের ছেলেমেয়েদের সাথেও প্রতিযোগিতায় যেতে হচ্ছে। এটা অন্যায্য। এটা অনৈতিক। অন্যান্য রাজ্যে তো এসব হয় না। রাজ্য সরকারি কলেজ আর কেন্দ্র সরকারি কলেজের মধ্যে পার্থক্য কি? রাজ্যের কলেজে রাজ্যের ছেলেমেয়েরা অগ্রাধিকার পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজ্যের ছেলেমেয়েদের সে অধিকার কেড়ে নেওয়া হল অনৈতিক ভাবে।

এর ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আজ সালটা ২০১৯ যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং বহিরাগত ছাত্র-ছাত্রীতে ভরে গেছে। রিজারর্ভড সীটে শুধুমাত্র রাজ্যের ছেলেমেয়েরা সুযোগ পায়, এটাই নিয়ম। কিন্তু জেনেরাল ক্যাটেগোরিতে রাজ্যের ছেলেমেয়ের সংখ্যা তলানীতে। আর গ্রাম-বাংলা, মফঃস্বল বা জেলা সদরের বড় স্কুল গুলো থেকেও আর যাদবপুরে চান্স পাচ্ছে না। এভাবেই ভ্রান্ত ডোমিসাইল নীতির কারণে গ্রাম-বাংলা তথা রাজ্যের ছেলেমেয়েদের পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজ্য বোর্ডকে।

শিবপুর বি ই কলেজ কেন্দ্রীয় কলেজ হয়ে গিয়ে এমনিই রাজ্যের কোটা কমে গেছে। বাংলার ছেলেমেয়েদের ক্ষতি হয়েছে বিস্তর, একটা বড় সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সুযোগ হারিয়েছে।

তাই রাজ্যের ছেলেমেয়েদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে যাদবপুর সহ সব সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সঠিক ডোমিসাইল নীতি চাই, এটা সময়ের দাবি।

(কৌশিক মাইতি)

ছবি